পাবলিক হেলথে যারা ক্যারিয়ার করবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের অনেকের কাছেই এই কথাটা শুনি। কথা সত্য কিংবা মিথ্যা সেদিকে যাব না, তবে বাস্তবতার কথা বলি। চাকরির বাজার সংকূচিত একথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি, তেমনি যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে থাকেন খোদ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, এই কথা আরও বেশি সত্যি।  তাহলে এই দুইয়ের যোগ হয় না কেন?

(১)

আমাদের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচন্ড মাত্রায় সেকেলে। যেখানে আপনার জ্ঞান যাই বৃদ্ধি হোক, দক্ষতা (গুটি কয়েক ক্ষেত্র বাদে) প্রায় শূন্যের কোটায় থাকে। তাই আপনি যে জ্ঞানী, সেটা কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন না!

(২)

যোগাযোগ দক্ষতায় সীমাবদ্ধতা একটা বড় কারণ। ধরুন, আপনি জ্ঞানসম্পন্ন ও দক্ষ। কিন্তু যিনি আপনাকে চাকরি দেবে, তাকে তো বোঝাতে হবে যে আপনি কতটা জ্ঞানী ও দক্ষ ।

(৩)

‘‘প্রথাগত নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা। সিভি লিখব, ফরম্যাট দেন। এ্যাপ্লিকেশন করব, ফরম্যাট কি হবে? ইমেইল এর কথা নাই বা বলি!”

কিভাবে শিখলাম, যাহোক, আত্মসমালোচনা সর্বদাই বিচক্ষণতার পরিচয়! আমার বহু খেটেখুটে লেখা সিভি প্রথমে রিভিউ করিয়েছিলাম এক জার্মান পোস্ট ডককে দিয়ে, আমি যার রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। মজার ব্যাপার হল, আমার জীবনের প্রথম প্রজেক্ট ছিল কৃষিতে নারীদের ভূমিকা ও জলসেচ! গ্রাম থেকে শুরু করে একদম বিভাগীয় পরিচালক পর্যন্ত একটাই প্রশ্ন করেছিল, আপনি এখানে কি করেন? যাই হোক, আমি কি করতে গিয়েছিলাম সে আমিই জানতাম। এবার আসল কথায় আসি, সেই রিসার্চার আমার সিভিতে ১৬৯ যায়গায় কেটে দিয়েছিলেন। সেদিন সেই কাটাকাটি করা ওয়ার্ড ফাইল দেখে আমার দিকে ঠাট্টার সুরে হাসা বন্ধুটি আজও কম্পিউটারের দোকানে ফরম্যাটে সিভি বানায়। বাই দ্য ওয়ে, এর পরের একটা প্রজেক্টে ওষুধের দোকান ঘুরে বেড়ানোর কাজ ছিল আমার। বিশ্বাস করুন, বহু ওষুধ দোকানী রীতিমতো দুরদুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে, কোম্পানি প্রতিনিধি ভেবে। তো এই প্রজেক্টেই কাজ করার সময়, এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আমার টিমেরই একজন কো-অর্ডিনেটরকে অপমানসূচক কথা বলে, কারণ সে অনেক বড় স্কিলের কাজ করে (ওডিকে ফর্মের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা!)। সেদিন প্রচন্ড অপমান বোধ হয়েছি, এরপর শুরু হয়েছিল ওডিকে শেখার লড়াই। এবং শিখে এসে ভরা মজলিসে আমার সুপারভাইজার যখন বললেন, আরে আপনিও এটা পারেন? আমি মুচকি হেসে বলেছিলাম, ভাই। এটা খুব সহজ কাজ, শিখিয়ে দিলে রশিদও (বাবুর্চি) পারবে।

একজন জনস্বাস্থ্য কর্মীর জীবনে এসব অভিজ্ঞতা কমবেশি সবার আছে। নতুন করে বলার অর্থ হল, এই সব ধরণের কাজে নিজেকে যুক্ত করার মধ্য দিয়েই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কেন এভাবে করতে হবে?

কারণ আমরা হতভাগ্য জাতি, প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের এগুলো শেখায় না। তাই ক্যারিয়ারে টিকে থাকতে হলে শিখতে হবে। তরুণ প্রজন্মের জনস্বাস্থ্য আগ্রহীদের প্রতি এইটুকুই বলব। শিখুন। কিভাবে ইমেইল করতে হয়, সিভি বানাতে হয়, কথা বলতে হয় বা কথার উত্তর দিতে হয়। সবচেয়ে বড় কিভাবে ম্যানেজমেন্ট সামলাতে হয়।

কোথায় শিখবেন?

যেখানে পারেন, সেখানে। কলেজে দেখবেন, কোন না কোন একজন স্যারকে পাবেন যিনি গবেষণায় আগ্রহী, তার পিছনে লেগে পড়ুন।

দেখবেন, কোন না কোন সিনিয়র সুন্দর লেখালেখি করে, তার সাথে লটকে যান। যেখবেন কেউ না কেউ আছে, যে সব কিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে পারে, তাকে লক্ষ্য করুন।

জনস্বাস্থ্য আসলে কোন একটা বিষয় নয়, স্বাস্থ্যের সামগ্রিক বিষয়ই জনস্বাস্থ্য। সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন- সাফল্য আসবেই।

দায়-স্বীকারঃ

আমি কোন হোমরা চোমরা বা ভালো মানের গবেষক কেউ নই। আমি একজন সাধারণ চিকিৎসক এবং আপনাদের মতই জনস্বাস্থ্য শিখছি।

 

লেখক : অনুপম দাস, জনস্বাস্থ্য কর্মী ও আরোগ্য শিল্পী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

Voicebd Media

1 Comment

    […] নিজস্ব স্ট্র্যাটেজির উপর। আর পাবলিক হেলথে চাকরি খোঁজার জন্য নিজেকে কিছু কৌশল আয়ত্ব বা অবলম্বন […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *