ছোট বেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ‘হাওয়াই মিঠাই’ কে ঘিরে। যুগের বিবর্তনে এই হাওয়াই মিঠাইয়ের আকারে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ছোট বেলায় লোকজন কাঁচের বাক্সে সারি সারি করে সাজিয়ে নিয়ে এসে বিক্রি করতো। দেখতে অনেকটা গোলাপী সাদা রঙের। যখন বিক্রেতা এসে ডাক দিতেন, তখন শুনেই কেনার জন্যে ব্যস্ত হয়ে যেতাম। কখন কিনবো।

স্বাদের হাওয়াই মিঠাই

কিন্তু তখন সেই পরিমাণ টাকা হাতে থাকার সুযোগ ছিলো না। ফলে কেনার একমাত্র বিকল্প ছিলো, বাড়ির ফেলে দেয়া পুরোনো লোহা, কাঁচের বোতল, টিন ভাঙ্গা দিয়ে কেনা। মাঝে মাঝে আফসোস লাগতো, কারণ এতো কষ্ট করে ঘুরে ঘুরে খুঁজে নিয়ে আসতাম, আর কিনে মুখে দেয়ার সাথে সাথেই ফিনিশ!

ক্রেতার অন্বেষণে বিক্রেতার ছুটে চলা

আজো ‘হাওয়াই মিঠাই’ দেখলে, ছেলেবেলার সেই মধুর স্মৃতিগুলোর কথা মনে পড়ে যায়! পরবর্তীতে এর আপগ্রেড ভার্সন আসে। সেটি হলো, এই মিঠাই বানানোর মেশিনসহ নিয়ে এসে তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে বিক্রি করা। শূণ্য একটি মেশিন ঘুরতে ঘুরতে তৈরি যেতো স্বাদের হ্ওায়াই মিঠাই। তৈরির প্রক্রিয়াটি ছিলো, কিছুটা মাকড়সার জাল তৈরির মতো। সেটি অবশ্য একটু বেশি দাম দিয়েই কিনতে হতো। আমি শেষ বার খেয়ে ছিলাম ৫ টাকায়।

গোলাপী সাদা রঙের হাওয়াই মিঠাই

অনেক দিন পর দেখলাম বান্দরবান জেলা শহরের বাজারে একাধিক ছেলে ফেরি করে এই হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করছিল। দেখেই পুরোনো সেই ফেলে আসা স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল। নিজেই খেয়ে স্বাদ নেবার ইচ্ছাটাকে নিবৃত্ত করতে পারিনি। তবে দিন পাল্টিয়েছে, দ্রব্যমূল্যের বেশ উর্ধগতি হয়েছে। এখন আর পুরোনো ফেলে দেয়া জিনিস দিয়ে কিনতে হয় না। এখন একটি হাওয়াই মিঠাই এর দাম ১০ টাকা।

কি সুন্দর হাওয়াই মিঠাই প্রদর্শনী !

এখনকার শিশুরা অনেকেই হয়তো ১০ টাকা দিয়ে কিনে খায়, কিন্তু এই হাওয়াই মিঠাই কে ঘিরে হয়তো সেই স্মৃতিগুলোর সম্মুক্ষীণ হওয়ার সুযোগগুলো পায় না, যেগুলো আধুনিক যান্ত্রিকতার ছোয়ায় আমরাও ভুলে যেতে বসেছি। সেই দিনের পুরোনো স্মৃতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ। 

 

লেখা ও ছবি ক্রেডিট :: সুমিত বণিক।   

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

সুমিত বণিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.