নিজস্ব প্রতিবেদক : বান্দরবানে আওয়ার লাইভস্, আওয়ার হেলথ্, আওয়ার ফিউচারস্ (ওএলএইচএফ) প্রকল্পের উদ্যোগে প্রকল্পের কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শুক্রবার (২৬ মার্চ) শেষ হয়েছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে সিমাভি ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এর সহায়তায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীটি আয়োজন করে স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একেএস)।

জেলা সদরের মাস্টার গেস্ট হাউজের কনফারেন্স কক্ষে ২৪ মার্চ থেকে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি শুরু হয়। এই প্রশিক্ষণে প্রকল্পের রোয়াংছড়ি, সদর এবং থানচি উপজেলায় কর্মরত বাস্তবায়নকারী ৩ সংগঠনের ১৫ জন কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীগণ প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের মাস্টার ট্রেইনার সুমিত বণিকের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ’র বান্দরবান জেলার প্রতিনিধি ধন রঞ্জন ত্রিপুরা। ২য় দিনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একেএস’র নির্বাহী পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, গ্রাউস’র উপ নির্বাহী পরিচালক চিন্ময় মুরুং ও তহজিংডং’র প্রকল্প পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন।

উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন,‘বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চলের কিশোরী ও যুবতী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এই প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পটি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য কাজ করছে এবং এই সময়োপযোগী উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার কিশোরী ও নারীরা অনেক বেশি উপকৃত হবেন বলে বিশ্বাস করি।’

২য় দিনে আগত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাসিক একজন কিশোরী ও নারীর জীবনের সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িয়ে থাকলেও মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্বে জানার সুযোগগুলো অবারিত ছিলো না।

আমাদের এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও উপাত্তগুলো প্রদানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিদ্যমান কুসংস্কারগুলো দূর করার সুযোগ রয়েছে। এই অনন্য উদ্যোগের সুযোগটাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

মাসিকের মতো একটা প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক লজ্জ্বা ও ভয় রয়েছে। সেই সাথে আমাদের কিশোরী ক্লাবের কিশোরীদের অভিভাবকদের কাছেও মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পৌঁছে দিতে হবে। তাদেরকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করার ক্ষেত্রে তাদেরকে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, পার্বত্য অঞ্চলে মাসিকের মতো প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে যে সমস্ত কুসংস্কার ও বদ্ধমূল ধারণাগুলো জড়িয়ে আছে, সেগুলোকে তাত্ত্বিকভাবে জেনেছেন।

পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সঠিক তথ্য-উপাত্ত প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কৌশলগুলো ও বার্তাগুলো নিয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।

প্রশিক্ষণ সঞ্চালনার সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন মাস্টার ট্রেইনার সুমিত বণিক। সঞ্চালনা সহযোগী হিসেবে ছিলেন বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার কাম ট্রেইনার য়ইসানু মারমা, সাচিং ইউ মারমা এবং জ্যোতি তঞ্চঙ্গ্যা। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন একেএস’র প্রকল্প সমন্বয়কারী ম্যামিসিং মারমা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

Voicebd Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *