আপনি যে পেশাতেই নিজেকে সফল বা প্রতিষ্ঠিত করতে চান না কেন, সে ক্ষেত্রে সে বিষয়ের উপর তাত্ত্বিক পড়াশোনা, আন্তরিকতা এবং একাগ্রতার কোন বিকল্প নেই। একজন ডেভেলপমেন্ট বা এনজিও কর্মী হিসেবে এই সেক্টরে আগ্রহীদের জন্য রইলো কিছু পরামর্শ। নিজেকে কোন সুনির্দিষ্ট পেশার জন্য যথার্থভাবে তৈরি করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রত্যেকটা মানুষকে যেতে হয়, এর বাইরে আমরা কেউ নই। তবে পেশাগত জীবনে এগিয়ে থাকা বা যাওয়ার জন্য কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া বা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা তৈরির বিকল্প নেই।

অনেক এনজিওর কাজ অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ এলাকাভিত্তিক। যেমন: বস্তি এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, পার্বত্যাঞ্চল, হাওরাঞ্চল। এমনকি কিছু এনজিও বিশেষ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে। যেমন : প্রতিবন্ধী, পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, নির্যাতিত নারী, সংখ্যালঘু, পেশাজীবি জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নতুন হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য নিচের বিষয়গুলোতে আপনার দক্ষতা আপনাকে অবশ্যই এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস করি। মূলত যে বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত সেগুলো হলো-     

১. আগেই নির্ধারণ করেন আপনি কোন ডিপার্টমেন্টে (HR, Admin, ICT, Communication, MEAL, Finance, সেই সাথে নির্দিষ্ট কোন প্রোগ্রাম যদি থাকে, যেমন Education, Health ইত্যাদিতে  কাজ করতে চান, তবে অবশ্যই আপনাকে তা নির্ধারণ করতে আপনার Educational Background এর ভিত্তিতে। বিভিন্ন প্রকারের NGO সম্পর্কে পড়াশোনা ও জানার চেষ্টা করেন। 

২. যত বেশি Development/NGO Sector এর সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেন, তা Volunteer হিসেবে হোক বা Intern হিসেবে হোক । প্রাথমিক পর্যায়ে বেতনাদি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা উচিত না। বরং যাই করেন না কেন, প্রতিটা কাজে নিজের একটা Signature তৈরি করা উচিত। 

৩. Email Navigation, Microsoft Excel,  Power Point, Word যত বেশি সম্ভব শেখার চেষ্টা করুন। IT সম্পর্কে টুকটাক ধারণা নেয়ার চেষ্টা করুন।  অহেতুক সবজান্তা ভাব  বাদ দেন। আপনাকে যারা হায়ার বা নির্বাচন করবে, তারা আপনার চাইতে অবশ্যই বেশি জানে, আপনি কেন যোগ্য সেটার দিকে নজর দেবেন । 

৪. কোন Seminar, Training, Meeting এ অংশ নেয়ার আগে Topics সম্পর্কে অন্তত পাঁচ মিনিট Google সার্চ করেন। সুযোগ পেলে Quality মন্তব্য করেন, যেন আপনার প্রতি Trainer/ Organizer এর Positive ধারণা জন্ম নেয় । ঘরে বসে না থেকে কিছু অনলাইনে কোর্স করার চেষ্টা করুন। যত বেশি সম্ভব জানার চেষ্টা করুন। নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করুন। 

৫. Copy-Paste এর পৃথিবী থেকে নিজেকে মুক্তি দেন।  অন্য কাউকে নিজের CV/Cover Letter করে দেয়ার অনুরোধ না করে নিজে করার চেষ্টা করুন। Professional CV করার চেষ্টা করুন। সব পদে একই CV না পাঠিয়ে সর্বশেষ কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে Regular CV Update করুন। 

৬. Communication Skill বাড়ানোর চেষ্টা করুন। পরিচিত অগ্রজদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। সুযোগ সন্ধানী হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের সুযোগ নিজেই খোঁজার চেষ্টা করুন।  

৭. পরিচিতজন, পরিবার, কাছের বন্ধু এদের কাছেই সবার আগে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করুন। নিজের দূর্বলতা/ GAP খুঁজে বের করুন এবং Improve করার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। আপনার সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা এবং Goodwill যেন পরিবার থেকে শুরু হয়। 

৮. Email Etiquette শেখার চেষ্টা করুন। Formal Email দেয়ার পদ্ধতি শেখার চেষ্টা করুন। Silly Email Address তৈরি না করে Professional Email Address তৈরী করুন। 

৯. Helping Attitude, Enthusiastic,  আগ্রহী এবং দক্ষ এমন একটা Appearance তৈরি করেন যেন, যে কেউ কোন সুযোগ পেলে প্রথমেই আপনার কথা ভাবতে পারে। 

১০. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, কৃষ্টি-কালচার, Gender এবং Political মতামত দেয়ার আগে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করুন। না জেনে নেতিবাচক মতামত দেয়ার চেষ্টা করবেন না, হয়তো এই একটা প্রশ্নের মাধ্যমে প্রশ্নকর্তাগণ আপনার মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবে। ফলে আপনার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনি আপনার কাঙ্খিত চাকরিটি না পেতে পারেন।

লেখক : মাসুম চৌধুরী, উন্নয়নকর্মী (আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত)

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

Voicebd Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *