পাবলিক হেলথ সেক্টরে জব খুঁজতে হয়, অনেকেই প্রায়শই সেটা ইনবক্সে জানতে চান । এই পোস্টে বাংলাদেশ চ্যাপ্টার নিয়ে কিছু আলোচনার চেষ্টা করছি৷ তারপরেও কারো কোন কনফিউশন থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, আই উইল বি হ্যাপী টু হেল্প। 

বাংলাদেশে পাবলিক হেলথ রিলেটেড জব খোঁজার জন্য আমার কাছে বেস্ট দুইটা ওয়েবসাইট মনে হয়, সেটি হলো, https://unjobs.org/duty_stations/bangladesh (এই ওয়েবসাইটে ইউএন, নন-ইউএন, ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যানিটারিয়ান সব জব পোস্টিংই দেয়া থাকে) এবং https://reliefweb.int/jobs?country=31#content (এখানে হিউম্যানিটারিয়ান জবের পোস্ট বেশি পাবেন)। 

আরেকটা বেস্ট সোর্স হল Linkedin Job Search; এছাড়া devex.com, impactpool.org বা বিডিজবস আছে কিন্তু unjobs.org এবং রিলিফওয়েব ছাড়া বাকিগুলার জব লিস্টিং আমার খুব একটা সমৃদ্ধ মনে হয়নি। তবে, আমি একটু ওল্ড স্কুল টাইপ। সেজন্য এগুলোর বাইরেও আমি অর্গানাইজেশন গুলোর আলাদা যে জব পোর্টাল থাকে, সেগুলো লিস্ট করে রাখতাম এবং রেগুলার চেক করতাম। 

তবে ‘জব কিভাবে খুঁজবেন এটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার একান্তই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজির উপর। আর পাবলিক হেলথে চাকরি খোঁজার জন্য নিজেকে কিছু কৌশল আয়ত্ব বা অবলম্বন করতে হয়।’ আমি আমার ২০১৮ এর ঘটনা বলি, তখন সদ্য এমপিএইচ শেষ করেছি, আর এক্সপেরিয়েন্স বলতে এমপিএইচ শুরুর আগে ৭ মাস USAID এর একটা প্রজেক্টে Quality Assurance Asscociate হিসেবে কাজ করেছি৷ 

তো, আমার মাস্টার্স শেষ হল ২০১৮ এর জানুয়ারির ২৭, UNFPA তে জয়েন করলাম ফেব্রুয়ারির ১১। আর আমি চাকরি খোঁজা শুরু করেছিলাম, এমপিএইচ শেষ হবার আরো চার মাস আগে থেকে। এই সময়ে শুধু রিলিফওয়েব দেখে দেখে অনেকগুলো জবে এপ্লাই করেছিলাম। কারণ, আমার টার্গেটই ছিল রোহিঙ্গা রেসপন্সে কাজ করব। এবং তিন জায়গা থেকে ডাকও পেয়েছিলাম, তিনটাই ছিল ইন্ট্যারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। এগুলো ছিল অনলাইন জবের ব্যাপার। এছাড়া, অফলাইনে জবের অফার ছিল তিনটা এবং এ সবগুলোর অফার কিন্তু আমার এমপিএইচ/মাস্টার্স শেষ হবার আগেই পেয়েছিলাম। 

তবে ব্যাপার হল, একটা জব জাস্ট একটা ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করে না, অনেকগুলো জিনিসের উপর ডিপেন্ড করে। আপনি সিভি কিভাবে সাজাচ্ছেন, স্টেটমেন্ট অফ পারপাজ কিভাবে লিখছেন, কভার লেটারে কি বলতে চাচ্ছেন, এমনকি আপনি মেইলের রিপ্লাই কিভাবে দিচ্ছেন সেটাও নোটিস করতে পারে রিক্রুটাররা। সর্বোপরি আপনার কোন স্কিল এবং এক্সপার্টিজ গুলো মার্কেটেবল সেগুলো আপনাকেই ঠিক করতে হবে। এগুলো কেউ কাউকে কোনদিন শেখাতে পারেন না, বা কারোটা দেখে কখনো নিজেরটা স্ট্যান্ড এলোন বানানো যায় না। আর লোকে বড় জোর আপনাকে গাইড করতে পারে। 

যাই হোক, পাবলিক হেলথ খুবই কম্পিটেটিভ একটা ফিল্ড, অনেক বেশি ডিসিপ্লিনারি হওয়ায় এবং মেডিকেল-নন-মেডিকেলের ক্রস কাটিং ডোমেইনের পার্ট হওয়ায় অনেক কিছু নতুন করে শেখা লাগে এবং এ সেক্টর নিয়ে অনেক মিথ চালু আছে যেগুলো সবসময় সত্য নয়। তাই পাবলিক হেলথ ফিল্ডে সুযোগের পাশাপাশি হতাশাও একটু ডিফারেন্ট টাইপের এখানে। তবে “লাইফে হতাশ হলেই বিপদ। হতাশ হওয়া যাবে না। জাস্ট লেগে থাকতে হবে। কারো সময় বেশি লাগবে, কারো কম।”

 

লেখক: ডা. এস. এম হাসানুল বারী, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন গবেষক।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

Voicebd Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *