নিজস্ব প্রতিবেদক : “বাল্য বিবাহ একজন মেয়ের জীবনকে পঙ্গু করে দেয়। মেয়েরা শিক্ষিত হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। তাই গার্লস ক্লাবগুলোতে দক্ষতামুলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি জোর দেওয়ার আহবান জানান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু”

০১ ডিসেম্বর ২০২১ সকাল ১১ ঘটিকায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা এবং খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ের হল রুমে “আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ (ওএলএইচএফ)” প্রকল্প কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের (স্টেকহোল্ডারদের) অংশগ্রহণে প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দাশ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মঞ্জুমদার। 

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তৃনমুল উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা। এরপর প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের মাস্টার ট্রেইনার নবলেশ্বর দেওয়ান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সীমা দেওয়ান, মহালছড়ি উপজেলার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুপন চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ধনিষ্টা চাকমা, দিঘীনালা উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার, গুইমারা উপজেলার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিতুল মনি চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, কার্বারী, হেডম্যান, জনপ্রতিনিধি, কিশোরী ক্লাব সদস্য ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা ও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করলে সেবাগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। “বাল্য বিবাহ মেয়েদের জীবন পঙ্গু করে ফেলে’বলেন প্রধান অতিথি। তাই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের জন্য সবাইকে আরো বেশি জোর দিয়ে কাজ করার আহবান জানান। জাবারাং, তৃনমুল ও কেএমকেএস কর্তৃক পরিচালিত ৯০টি কিশোরী ক্লাবে কিশোরীদের দক্ষতাবৃদ্ধির জন্য আগামী অর্থ বছরের ৯০ টি সেলাই মেশিন দেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়াও কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোতে কিশোরী ও নারীরা যেন অংশগ্রহণ করে সেই জন্য প্রচারনা করার জন্য তিনি এনজিওদের প্রতি আহবান জানান। 

 

 

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
About Author

Voicebd Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *